নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর গ্রামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে ভয়ংকর প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। টুটুল মুখার্জী নামের এই ব্যক্তি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বহুমাত্রিক প্রতারণা, হুন্ডি ব্যবসা এবং মানবপাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত দেবদাস মুখার্জীর ছেলে টুটুল মুখার্জী বাংলাদেশে নিজের পরিচয়ে বসবাস করলেও ভারতে গিয়ে কুটুল মুখার্জী বা শ্রী কুটুল মুখোপাধ্যায় নামে পরিচয় ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন নামে তিনি দুই দেশের সরকারি নথি ব্যবহার করে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ হাবড়া এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। সেই পরিচয়ে তিনি পাসপোর্ট, আধার কার্ড ও রেশন কার্ড সংগ্রহ করেন। এমনকি প্রতারক টুটুল মুখার্জীর ভারতীয় পাসপোর্টসহ নাগরিক ডকুমেন্টে তার জন্ম তারিখ ব্যবহার করেছেন ৯/১২/১৯৭৫ সাল। অন্যদিকে বাংলাদেশের নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি জন্ম তারিখ ব্যবহার করেছেন ১০/০২/১৯৭৯ সাল। সম্পূর্ণ ভয়ংকর প্রতারণার শামিল।

এমনকি, ২০১২ সালের ২০ জুলাই তারিখে ৪৭০৭ নম্বর দলিলে প্রায় ৫,২৭,৬৯৫ ভারতীয় টাকায় ৮ শতক জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পাসপোর্ট ও জমির দলিলে ব্যবহৃত নাম ও উপাধির মধ্যে অসংগতি রয়েছে, যা স্পষ্ট জালিয়াতির ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি টুটুল মুখার্জী নামেই পরিচিত। এখানেও পিতার নাম দেবদাস মুখার্জী ও মাতার নাম মিরা রাণী মুখার্জী ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি সিংগাশোলপুর বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করে দুই দেশের সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, টুটুল মুখার্জী হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের ভারতে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের সাথে জড়িত।

এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বহু সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনি দৃষ্টিকোণ দুই দেশের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ।

বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী: দণ্ডবিধি ৪২০ ধারা (প্রতারণা) পাসপোর্ট আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মানবপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী: Indian Penal Code (IPC) 420 (Fraud) Citizenship Act, 1955

Prevention of Money Laundering Act

এই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বহুমাত্রিক প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ ও ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তদন্ত প্রয়োজন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই চক্র আরও বিস্তৃত হয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নামে দুই দেশের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে বছরের পর বছর প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে, এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই ধরনের অপরাধ চক্র ভেঙে দিতে।

এবিষয়ে টুটুল মুখার্জী মুঠোফোনে বলেন, আমি ভারতে নাগরিকত্ব নিয়েছি ছদ্মনামে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার বাংলাদেশের নাম ঠিকানা ঠিক আছে কি না এটা দেখেন।

(তদন্ত চলমান, পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে)